হোমিওপ্যাথি — দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসাপদ্ধতি যা সমগ্র বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করে।
হোমিওপ্যাথি হলো একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি যা ১৭৯৬ সালে জার্মান চিকিৎসক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতি "সাদৃশ্য নীতি" (Like Cures Like) এর উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রস্তুত করা হয় এবং অত্যন্ত লঘু মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। এটি রোগীর শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় অবস্থার সামগ্রিক বিবেচনা করে চিকিৎসা প্রদান করে।
এই চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং সকল বয়সের মানুষের জন্য উপযোগী। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই এই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিতে বহু ধরনের রোগের কার্যকরী চিকিৎসা সম্ভব। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য রোগের তালিকা দেওয়া হলো:
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা এবং শ্বাসনালীর বিভিন্ন রোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
একজিমা, সোরিয়াসিস, ব্রণ, দাদ-চুলকানি সহ সকল প্রকার চর্মরোগের কার্যকর চিকিৎসা।
অম্বল, গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, ভয়ের মতো মানসিক সমস্যার প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
মাসিকের সমস্যা, সাদা স্রাব, জরায়ুর সমস্যা ও অন্যান্য স্ত্রীরোগের চিকিৎসা।
শিশুদের হাঁপানি, হাম, কাশি, ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা ও অন্যান্য শৈশব রোগের নিরাপদ চিকিৎসা।
হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরি হলো একটি পদ্ধতিগত সূচীপত্র যেখানে রোগের লক্ষণগুলো বিভিন্ন শিরোনামে সাজানো থাকে। এটি চিকিৎসকদের সঠিক ঔষধ নির্বাচনে সহায়তা করে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রেপার্টরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। এটি চিকিৎসকদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সাহায্য করে:
জনপ্রিয় রেপার্টরি: Kent's Repertory, Boenninghausen's Therapeutic Pocket, Synthesis Repertory
হোমিওপ্যাথিতে রুব্রিক হলো রেপার্টরির একটি নির্দিষ্ট শিরোনাম বা বিভাগ যেখানে একই ধরনের লক্ষণসমূহ একত্রিত করা থাকে। প্রতিটি রুব্রিক একটি নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ বা উপসর্গকে নির্দেশ করে।
রুব্রিকের মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর লক্ষণগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করেন এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত ঔষধ খুঁজে পান।
মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ইত্যাদি
বুক ধড়ফড়, হৃদরোগ
হজমের সমস্যা, বমি
অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন